দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছে মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাব।

আবেদনে বলা হয়, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে একটি স্কুলের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর ওই সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর অভিযোগ উত্থাপন করেন।

প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশের পর সুজন মিয়া জেলা প্রশাসকের ফ্রন্ট ডেস্কসহ বিভিন্ন দপ্তরে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করেন। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপজেলা প্রেসক্লাবকে ‘একাংশ’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন প্রেসক্লাবের নেতারা। তারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল।

প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় আবেদনটি গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবেদনটি প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।