উত্তরাঞ্চলের প্রধান শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ–এ ধান ও চালের বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে অনিয়ন্ত্রিত আমদানির প্রভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত এক মাসে জেলার বড় মোকামগুলোতে মানভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত কমেছে। একই সঙ্গে ধানের দামও দ্রুত নেমে গেছে, ফলে উৎপাদক কৃষক ও চালকল মালিকরা আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে মান্দা উপজেলার সতিহাটে স্বর্ণা-৫, জিরাশাইল ও সম্পা কাটারী জাতের ধান যথাক্রমে প্রায় ১,১১০ থেকে ১,৯২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এসব ধানের দাম ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি—কিছু ক্ষেত্রে মণপ্রতি ৬০০ টাকারও বেশি ব্যবধান।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য মিলছে না। সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন এই দরপতনে অনেকেই ধান বিক্রি না করে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষকদের একাংশের আশঙ্কা, বাজার পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে আসন্ন বোরো মৌসুমে চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ বেড়ে যাওয়া এবং আমদানির চাপ মিলিয়ে বাজারে অতিরিক্ত জোগান তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তারা খাদ্য বিভাগের প্রতি বোরো মৌসুমে সরকারি ক্রয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে—কীভাবে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত রেখে বাজার ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।