ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার রাজাবাড়ি বিটে শুরু হয়েছে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রম। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত জুন মাস থেকে টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীন জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ এলাকায় দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মধুপুর শালবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বনায়ন সম্প্রসারণই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সে লক্ষ্যে একসময় শালবনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো দেশীয় প্রজাতির গাছ পুনরায় রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বনাঞ্চলে শাল, গর্জন, চাপালিশ, হলদে গামারসহ বিভিন্ন মূল্যবান বনজ প্রজাতির চারা রোপণ করা হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব এবং জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাব্বী রায়হান।
এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৮ নম্বর দাউগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল মালেক শাহিন, কমলাপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস মেম্বার, ৮ নম্বর দাউগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আহাম্মেদ আলামিন ও সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসাইন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হামেদ আলী সরকার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী আকন্দ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, কমলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জুবায়ের আহমেদ, দাউগাঁও ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ৯ নম্বর কাশিমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ৮ নম্বর দাউগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম দুলাল, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ মণ্ডল, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোখলেসুর রহমান।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশীয় প্রজাতির গাছের বিকল্প নেই। তাই পর্যায়ক্রমে বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় প্রজাতির আরও চারা রোপণ করা হবে।
তারা আরও জানান, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে মধুপুর শালবনের হারিয়ে যাওয়া সবুজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বনভূমি গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।