ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসন এবং কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে তনদিনব্যাপী মহাকালের কবি আল মাহমুদ স্মরণোৎসব সমাপ্ত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আল মাহমুদ স্মরণোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে “সোনালী কাবিন পদক” গ্রহণ করেন বিশিষ্ট কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৩-আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মনজু, কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম খান সাদাত, কবি আল মাহমুদ গবেষক ডঃ ফজলুল হক তুহিন, নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সৈয়দ মোঃ আকরাম।

অনুষ্ঠানে অনুভ‚তি ব্যক্ত করে কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, কবি আল মাহমুদ জন্ম না নিলে বাংলার নদী, প্রকৃতি, গ্রামীন জনপদ ও লোকজ ঐতিহ্যকে আমরা এভাবে চিনতে পারতাম না। তাঁর কবিতায় যে বাংলা উঠে এসেছে, সেটিই আমাদের শিকড়, আমাদের আত্মপরিচয়।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের আশি দশকের কবিতার জগতে আল মাহমুদ ছিলেন এক অনন্য উচ্চতার কবি। তিনি কবি ফররুখ আহমদ, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, নজরুল গবেষক কবি আব্দুল কাদির এবং কবি মোঃ মাহফুজউল্লাহর সাহিত্য কীর্তির কথা স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি বলেন, দুই নজরুল গবেষক আব্দুল কাদির ও মাহফুজউল্লাহ এবং তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের ¯্রষ্টা অদ্বৈত মল্লবর্মণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান হিসেবে এই জনপদের গৌরব বহন করছেন।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শুধু কবি আল মাহমুদের জন্মভূমিই নয়, সংস্কৃতির এক উর্বর জনপদের ভূমি। তিনি আরো বলেন, ঐতিহাসিক ঈসা খাঁর রাজধানী সরাইল, জিআই পণ্য ছানামুখী, ঐতিহ্যবাহী তালের বড়া এবং মুক্তিযুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গৌরবোজ্জ্বল অবদান এ জেলার ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। এসব ঐতিহ্য ও জনপদের চিত্র কবি আল মাহমুদের সাহিত্যেও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৩-আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, আল মাহমুদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এমন এক শক্তিমান কবি, যিনি তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা কবিতাকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্যচর্চা ও জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন আরো বিস্তৃত হওয়া উচিত।

পরে অতিথিরা কবি আব্দুল হাই শিকদারের হাতে “সোনালী কাবিন পদক”, সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় তুলে দেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদের সদস্য সচিব লিটন হোসাইন জিহাদ। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।