জাতীয় সংসদ মঙ্গলবার ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন–২০২৬’ পাস করেছে, যা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বিলটি উত্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ–এর সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

আইনটির উদ্দেশ্য হিসেবে সরকার জানিয়েছে, হাওর অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং কৃষি সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হাওর উন্নয়ন বোর্ড এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে গঠিত হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওর অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে প্রতিবন্ধকতা, এবং কৃষিতে বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি বেড়েছে। পর্যটনের বিরূপ প্রভাবও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, যা মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে রাষ্ট্রকে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি–এর করা এক রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জলাভূমি সংরক্ষণে দ্রুত আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিল।

নতুন আইনে বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনপ্রণেতারা বলছেন, এই আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে হাওর ও জলাভূমি এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হবে।