জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ভূগোল বিভাগের প্রভাষক (নন-ক্যাডার) মোহাম্মদ নূরে আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আদালত প্রয়োজন মনে করলে অন্য কোনো উপযুক্ত আদেশ কেন দেওয়া হবে না—তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবিব রাজা গত ১৫ জুন হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং–৭৬৫০/২০২৬ দায়ের করেন। রিটে অভিযোগ করা হয়, কলেজের ১২ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে উপেক্ষা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার এক আদেশে মোহাম্মদ নূরে আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান নীতিমালা ও জ্যেষ্ঠতার বিধান পরিপন্থী।
শুনানি শেষে গত ৫ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া, রিট বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিষয়টি আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীপক্ষে রিটটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মানিক মিয়া।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সহকারী পরিচালক (কলেজ-১), ইসলামপুর সরকারি কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. রুকন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূরে আলমকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য যোগদান করা ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. জুবায়ের বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।“