একসময় বিশ্ব ফুটবলে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখা ইতালি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে না পারা দেশটির ফুটবল কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্লেষকদের। এই প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে কিংবদন্তি রবার্তো ব্যাজ্জিওর প্রস্তাবিত সংস্কার পরিকল্পনা, যা কখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

কয়েক বছর আগে ইতালির ফুটবলের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ‘রিনিউ দ্য ফিউচার’ শীর্ষক একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন ব্যাজ্জিও। প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার এই রূপরেখায় তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত কাঠামোগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা ছিল। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণব্যবস্থা, প্রতিভা বিকাশ এবং কৌশলগত উন্নয়নের দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

Advertisement

পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা, তরুণ খেলোয়াড়দের সনাক্তকরণে সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরি এবং প্রশিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন। ব্যাজ্জিও বিশেষভাবে জোর দিয়েছিলেন এমন কোচ তৈরিতে, যারা কেবল কৌশলগত দিকেই নয়, শিক্ষাগত ও মানসিক বিকাশেও খেলোয়াড়দের সহায়তা করতে সক্ষম হবেন।

তিনি সতর্ক করেছিলেন, শুধুমাত্র কৌশলনির্ভর ফুটবল দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, খেলোয়াড়দের টেকনিক্যাল দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং বলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখাই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। পাশাপাশি আধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল স্কাউটিং ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছিলেন তিনি—যা আজ বিশ্ব ফুটবলে একটি মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।

তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অনীহা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর না হওয়ায় হতাশ হয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেন ব্যাজ্জিও।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর ইতালির ধারাবাহিক পতন এই অবহেলারই প্রতিফলন। পরবর্তী আসরগুলোতে তাদের ব্যর্থতা এবং সাম্প্রতিক প্লে-অফে পরাজয় ফুটবল ব্যবস্থার গভীর সংকটকে সামনে এনেছে।

অনেকের ধারণা, সময়মতো সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। ইতালির সাম্প্রতিক ব্যর্থতা তাই কেবল মাঠের ফলাফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীতিগত ঘাটতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।