ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে তিন ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে খাদিম মিয়া-(৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত এবং উভয়পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা গ্রেপ্তার এড়াতে সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গত রোববার রাতে মোবাইল ফোন ও টর্চের আলো জ্বালিয়ে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। নিহত খাদিম মিয়া ধরন্তি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে।

রোববার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘন্টা উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে এই সংর্ঘষ চলে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে পুলিশ বিপুল সংখ্যক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যাবসায়ী মোশারফ হোসেন ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে ৫ লাখ টাকায় বিলের চটাপাটি বিক্রি করেন। দীর্ঘ ৯ মাস হলেও আলাল ও আশিক মোশারফকে তার পাওনা ৫ লাখ টাকা দেয়নি।

রোববার বিকেলে সরাইল শহীদ মিনার এলাকায় পাওনাদার মোশারফের সাথে আশিক ও আলালের দেখা হয়। এসময় পাওনাদার মোশারফ আশিক ও আলালের কাছে পাওনা টাকা চাইলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খবর তাদের নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষ কালিকচ্ছ বাজারে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে জড়ায়। সংঘর্ষ চলাকালে আশিক ও আলালের পক্ষের খাদিম মিয়া টেটাবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। তিন ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৫০জন আহত হয়।
খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হলে জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আসে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে আছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ বিপুল সংখ্যক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।