আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তাঁর দাবি, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য না দেওয়ায় বাংলাদেশ চীনের মতো উন্নয়নের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান বলেন, বিএনপি কখনো কোনো দেশের দালালি করে না। দলটি সবসময় দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “আজ যারা বিএনপিকে ভারতের দালাল বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা বাস্তবতার কাছে ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। বিএনপি যদি ভারতের স্বার্থে পরিচালিত হতো, তাহলে সরকারপ্রধানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর চীনের পরিবর্তে ভারতে হতো।”

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। তবে সেই সম্পর্ক অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হতে হবে। কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ বা একতরফা প্রভাব বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।”

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে বিজিবি সীমান্তে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় তারা দৃঢ় অবস্থান থেকে কাজ করছে।”

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, “জামায়াত ও এনসিপির কিছু নেতা আজ সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন। অথচ দীর্ঘ সময় তারা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। এখন তারা বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার আগে সবার উচিত নিজেদের অবস্থানও পর্যালোচনা করা। জনগণ এখন রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তব কর্মকাণ্ডও মূল্যায়ন করছে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক। প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে, তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।