কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দানের ধারা থামছেই না। মাত্র ১৮২ দিনে মসজিদের ১৩টি দানবাক্সে জমা হয়েছে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণে এটি পাগলা মসজিদের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন-এর উপস্থিতিতে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। এবার দানবাক্স থেকে উদ্ধার হয় ৪৩ বস্তা টাকা, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
এরপর মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় শুরু হয় টাকাগণনার কাজ। দিনব্যাপী চলা এই কার্যক্রম শেষ হয় রাত পৌনে ৯টার দিকে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. কামরুল হাসান মারুফ চূড়ান্ত হিসাব নিশ্চিত করে জানান, মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা গণনা করা হয়েছে। এছাড়া পাওয়া গেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।
টাকা গণনায় অংশ নেন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পুরান থানাস্থ জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মোট ৫৯০ জন স্বেচ্ছাসেবী।

ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৪৩ বস্তা টাকা, রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলার সময় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেবারও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার হয়েছিল। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে এবার সেই রেকর্ডও অতিক্রম করেছে পাগলা মসজিদ।
দানবাক্স খোলার সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, দানবাক্সে পাওয়া অর্থ শুধু পাগলা মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণেই নয়, জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা এবং নানা সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়।
এদিকে, পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই কমপ্লেক্সে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ধর্মীয় বিশ্বাস, আস্থা এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত দানের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে পাগলা মসজিদ আবারও প্রমাণ করল—দেশের অন্যতম বৃহৎ দানকেন্দ্র হিসেবে এর জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েই চলেছে।