ভবিষ্যৎ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা। বুধবার সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণে নিশ্চিত হবে ভবিষ্যৎ জীবন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। তিনি জানান, পেনশন তহবিল সরকারি ট্রেজারি ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হওয়ায় এটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত বিনিয়োগ কাঠামোর মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা নির্ধারিত কিস্তিতে সঞ্চয়ের মাধ্যমে পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়সের পর নিয়মিত পেনশন সুবিধা পাবেন। কোনো গ্রাহক পেনশন গ্রহণের আগেই মৃত্যুবরণ করলে বিধি অনুযায়ী মনোনীত ব্যক্তি জমাকৃত অর্থ ও প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।
পেনশন স্কিমের নমনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীর আয়-সামর্থ্যের পরিবর্তন হলে কিস্তির পরিমাণ সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। এতে বিভিন্ন পেশা ও আয়ের মানুষের জন্য কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া সহজ হবে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৪ কোটি মানুষকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার। তিনি স্বাগত বক্তব্যে বলেন, নাগরিকদের মধ্যে পেনশন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।
মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সেবা প্রদানকারী সংস্থার তথ্য ও নিবন্ধন বুথ স্থাপন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা সেখানে পেনশন স্কিমের বিভিন্ন প্যাকেজ, নিবন্ধন পদ্ধতি, সুবিধা এবং শর্তাবলি সম্পর্কে সরাসরি তথ্য জানতে পারছেন।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
আয়োজকরা আশা করছেন, মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হবেন।