ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের খাদলা বড় বাড়ির হারুনুর রশিদ হত্যা মামলার অন্যতম দুই আসামী মজিবুর রহমান সাগর-(২৩) ও বায়েজিদ মিয়া-(২১) কে ঘটনার ২ বছরেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
অপরদিকে জামিনে মুক্ত থাকা মামলার অন্য দুই আসামী মোঃ ফিরোজ মিয়া-(৫৩) ও তার স্ত্রী আছমা বেগম প্রকাশ রতœা আক্তারের-(৪৬) বিরুদ্ধে মামলা উঠিয়ে নিতে বাদীকে হত্যার হুমকীসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। আদালতে তাদের জামিন বাতিলের প্রার্থনা করা হয়েছে। তাছাড়া একাধিক মামলা দিয়ে বাদী ও স্বাক্ষীদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে আসামীদের বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের ২৫ শে এপ্রিল রাতে নিজের বাড়িতেই হামলার শিকার হয়ে মারা যান হারুনুর রশিদ। দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয় তার ওপর। সে সময় মারধোর ও ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয় হারুনুর রশিদের। হত্যা মামলার আসামী সাগর,বায়েজীদসহ অন্যান্য ছেলেরা হারুনুর রশিদের চাষ করা তিলের জমির পাশে খেলতে গিয়ে জমিতে দেয়া প্ল¬াষ্টিকের জালের বেড়া ফেলে দেয় এবং ক্ষেত নষ্ট করে। এনিয়ে হারুনুর রশিদ সকল ছেলেদের বকাবকি করেন। এটি শুনে সাগর হারুনকে হুমকি দেয়।
এরপর ওইদিন রাতে সাগর ও বায়েজিদ হারুনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য গালাগাল করতে থাকে। হারুনুর রশিদ ঘর থেকে বের হয়ে এলে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাগর তার পকেটে থাকা ছুরি দিয়ে হারুনুর রশিদের বুকে এবং শরীরের অন্যান্য স্থানে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে।
ঘটনায় পরদিন নিহত হারুনুর রশিদের স্ত্রী লাকি আক্তার বাদি হয়ে কসবা থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে কসবা থানা পুলিশ এই মামলার ৩ নম্বর আসামী ফিরোজ মিয়া ও তার স্ত্রী মামলার ৬ নম্বর আসামী মোছাম্মৎ আছমা বেগম প্রকাশ রতœা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
কসবা থানার এসআই মোহাম্মদ কামাল হোসেন মামলা তদন্ত করে মামলার ৪ আসামী মজিবুর রহমান প্রকাশ সাগর মিয়া, মোঃ বায়েজিদ, মোঃ ফিরোজ মিয়া, মোছাম্মৎ আছমা বেগম প্রকাশ রতœা আক্তারের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩০এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এজাহারভূক্ত অন্য ৩ আসামী নায়েব আলী,সজিব মিয়া, সুরাইয়া আক্তারকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান ও পর্যাপ্ত স্বাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহন করা হয়নি বলে ৩ জুলাই বাদী দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী প্রদান করেন। আদালত নারাজী আবেদন গ্রহন করে অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই পুলিশ সুপারকে নির্দেশ প্রদান করেন।
পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শাহআলম সরকার এ বছরের ৩০ জুলাই মামলার পুনঃতদন্ত শুরু করেন। গত ২ ফেব্রæয়ারি ৪ আসামী মজিবুর রহমান সাগর, মোঃ বায়েজিদ, ফিরোজ মিয়া ও তার স্ত্রী আছমা বেগম প্রকাশ রতœা আক্তারের বিরুদ্ধে হারুনুর রশিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করার অপরাধ প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত বলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এদিকে মামলার আসামী মোছাম্মৎ রতœা আক্তার ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবরে এক বৎসরের জন্য জামিনে মুক্তি পান। ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর তার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে তার জামিন বর্ধিত হওয়ার কোন আদেশ আসেনি জানিয়ে নিহতের ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, রতœা আক্তারের জামিন বাতিলের জন্য তারা আদালতে একাধিক আবেদন করেছেন। জামিনে থাকা রতœা ও তার স্বামী মোঃ ফিরোজ মিয়া মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি-ধামকী এবং বাদীকে হত্যা করা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। রতœা জামিনে আসার পর গত কয়েক মাসে তাদের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমার ভাইকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
