ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান, আর্থসামাজিক অবস্থা এবং দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরূপণের লক্ষ্যে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ ২০২৬’ বিষয়ক একটি আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরিশিরিস্থ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি মিলনায়তনে কর্মশালার আয়োজন করে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসন। এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মীর হোসেন, যুগ্নসচিব ড. দিপঙ্কর রায় এবং নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত।
কর্মশালায় জানানো হয়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন প্রকল্পের কার্যক্রম ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর শুরু হয়েছে এবং এর মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত ১৭টি জেলায় জরিপ পরিচালনা করা হবে। এ কাজে তথ্য সংগ্রহকারীরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
জরিপের খসড়া প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন মডিউল নিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি, জনসংখ্যা নিরূপণ এবং স্থানীয় বাস্তবতা প্রতিফলনের বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, দেশের সামগ্রিক ও সুষম উন্নয়নের কথা ভাবতে গেলে প্রথমেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা চলে আসে। এই জরিপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সঠিক আর্থসামাজিক অবস্থা এবং দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীর সঠিক আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। তিনি নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, জরিপের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কর্মশালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, নৃ-গোষ্ঠী প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
