কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে দুই শিশুসহ ৯ জন ব্যক্তি গত কয়েক দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিচয় যাচাই, নাগরিকত্ব নিরূপণ এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে অবস্থানরত এসব মানুষের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। তারা সীমিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। দিনের প্রচণ্ড গরম ও রাতের প্রতিকূল পরিবেশে তাদের অবস্থান স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আটকে পড়াদের একজন সুমি আক্তার দাবি করেন, তারা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার সন্ধানে কয়েক মাস আগে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে এবং বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে নিয়ে আসে। তবে পরিচয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত না হওয়ায় তারা এখনও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। শিশুদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাগরিকত্ব বা প্রবেশাধিকারের বিষয়ে কোনো জটিলতা থাকলে সেটিও দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আটকে পড়া ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা এসব মানুষের ভবিষ্যৎ এখন মূলত দুই দেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
