ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতির পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহে অনিয়মিততা দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য নির্ধারিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেবা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে ২০ শয্যাবিশিষ্ট ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে একজন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) এবং একজন ফিমেল মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সেবার পরিধি বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি পায়নি। বর্তমানে কেন্দ্রটির একমাত্র মেডিকেল অফিসার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে একটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ও শিশু বিশেষজ্ঞের অভাবে দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে জটিল প্রসূতি সেবার প্রয়োজন হলে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক অথবা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে যেতে হচ্ছে।

কেন্দ্রটির মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্যসংক্রান্ত ১৬ ধরনের সেবা প্রদানের কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি সেবা সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় ওষুধ বিতরণ কার্যক্রমও বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানা গেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাকর্মী, আয়া, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদও শূন্য রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে সংযুক্ত জনবল দিয়ে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় অনেক রোগীকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. মেহেদী হাসান বলেন, “সীমিত জনবল ও বিদ্যমান সম্পদ নিয়েই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনবল সংকট ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার লক্ষ্যে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, জনবল বৃদ্ধি এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে জেলার হাজারো মা ও শিশু সহজে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারবেন।