ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ও একটি আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার বাদী কৃষক রফিকুল ইসলাম (রফি)-কে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রফির পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে সংযোজনযোগ্য) ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রফির মা লাইলী বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে একটি হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
লাইলী বেগমের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৩ জুন বাঘাডাঙ্গা গ্রামের ব্যানাকুড় মাঠ এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামলা দায়ের করা হয়। পরিবারের দাবি, রফি কোনো অস্ত্র ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী নন; বরং তিনি ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সংঘটিত একটি জোড়া হত্যা মামলার বাদী।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় রফির ভাই শামীম ও চাচা (দেবর) মন্টু নিহত হন। এ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কারণে রফি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন সকালে রফি নিজ জমিতে গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য নেপিয়ার ঘাস কাটতে যান। বাড়ি ফেরার পথে বিজিবির একটি টহল দল তাকে আটক করে। পরিবারের দাবি, তার দেহ তল্লাশি করে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পরে তাকে ঘাসক্ষেতের ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটি পলিথিনে মোড়ানো অস্ত্র উদ্ধার দেখানো হয় এবং সেটি তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
লাইলী বেগম বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, “অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি সত্য। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেই বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ফাঁসানোর অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
তিনি জানান, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি এখন বিচারাধীন।
ঘটনাটিকে ঘিরে একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি রফির দেহ তল্লাশির সময় পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ৩ জুন বিজিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্রটি একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুই নথিতে অস্ত্র উদ্ধারের স্থান ও পরিস্থিতি নিয়ে এই ভিন্ন বর্ণনা ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান। তারা বলেন, জোড়া হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
