ঝিনাইদহের সাফদারপুর রেলস্টেশনের পয়েন্ট এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।

রোববার (তারিখ) সকাল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে খুলনা ও ঈশ্বরদী থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় লাইন মেরামত ও বগি উদ্ধার শেষে বিকেল ৩টার দিকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা তেলবাহী ট্রেনটি সাফদারপুর স্টেশনে প্রবেশের আগে পয়েন্ট এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে রেললাইন ও স্লিপারের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার কারণে উভয় পাশের স্টেশনগুলোতে কপোতাক্ষ, রকেট, সীমান্ত এক্সপ্রেসসহ একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে রওনা হন।

খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে ঈশ্বরদী ও খুলনা থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত এবং লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নিতে একযোগে কাজ করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকেল ৩টায় রেল চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।

সাফদারপুর স্টেশনের স্টেশনমাস্টার গোলাম রসুল নয়ন বলেন, “তেলবাহী ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের সময় পয়েন্ট এলাকায় তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে রেললাইন ও স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ধারকারী ট্রেনের সহায়তায় লাইন সংস্কার শেষে বিকেল ৩টা থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণে কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়নি। তবে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে চলাচল করেছে।

মোবারকগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও মেরামত কাজ শুরু করি। ঈশ্বরদী ও খুলনা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আনা হয়। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।