সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিলেটের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের বিপণন এবং পুঁজির সংস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিলেট উপপরিচালকের কার্যালয় এ মেলার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরকে সময়োপযোগী ও উদ্যোক্তাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে, যাতে উৎপাদক ও উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হন।
তিনি বলেন, “নতুন উদ্যোক্তাদের টিকে থাকতে হলে বাজারসংযোগ ও অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি জরুরি। সিলেট সিটি করপোরেশন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করবে।”
সিলেট অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় উৎপাদনমুখী শিল্প খাত গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সিলেটের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, “উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে উইম্যান চেম্বার, কৃষি বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সিলেট থেকে সরাসরি বিদেশে কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণে আমরা কাজ করছি।”
তিনি জানান, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির সুযোগ থাকলেও পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য আধুনিক প্যাকেজিং ও হ্যান্ডলিং সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে সিলেটের কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পণ্যের প্রচার ও বিপণন জোরদারে একটি আধুনিক প্রদর্শনী কেন্দ্র (ডিসপ্লে সেন্টার) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক জুলিয়া জেসমিন মিলি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, সিলেট উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পা, হবিগঞ্জের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রাবেল তালুকদার এবং মৌলভীবাজারের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ফারুক উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন গ্রাসরুটসের সভাপতি হিমাংশু মিত্র, সম্পাদক নাফিসা শবনম এবং উদ্যোক্তা মো. সৈয়দুর রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে মেলায় অংশগ্রহণকারী সফল কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
