ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের “কেটে ফেলা” গাছ “দাঁড়িয়ে” যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় শুরু হওয়ার পর অবশেষে গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি কেটে ফেলা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ” অবস্থায় ছিলো। তাই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় কেটে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, “গাছটির কিছু অংশ কাটার বাকি ছিলো। সেটি হেলে পড়েছিলো কিনা সেটা জানা নেই। আমরা গাছের মালিকের সাথে কথা বলেছি। তিনি গাছটি কাটার বিষয়ে মত দেন। গাছ বিক্রির টাকা অনুদান হিসেবে মসজিদ বা মাদরাসায় দেয়ার কথা বলেছেন। নয়তো মসজিদ বা মাদরাসার কেউ এটা নিতে পারবেন। এদিকে গাছটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তোলপাড় শুরু হয়। এটিকে ঘিরে মাজার করা হবে সন্দেহে অনেকে এটিকে কাটার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। কেউ কেউ এটাকে অলৌকিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
আখাউড়া পৌর এলাকার বড় বাজারের বাসিন্দা মির্জা মারুফ গাছটি নিয়ে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেন, এটা দ্রæত কেটে সরিয়ে নেয়া উচিত। নইলে এখানে গেছুশাহের মাজার নির্মিত হবে। এরকম একটি গাছ শ্রীকাইলে হয়েছিল। এটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। গাছের গোড়া অর্ধেক কাটা আর ডালপালা কেটে দেয়ায় সোজা হয়ে গেছে।
ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ আবার নিজে নিজে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অলৌকিক কিছু নয়, বরং এটি মূলত গাছের মূলের টান,/মাটির স্থিতিস্থাপকতা এবং গাছের অভ্যন্তরীন রসের চাপের (ঐুফৎড়ংঃধঃরপ চৎবংংঁৎব) কারণে ঘটে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি কোনো রহস্যময় ভর উত্তোলন নয়। ঝড়ের চাপ দূর হওয়ার পর উদ্ভিদের শিকড়ের ইলাস্টিক শক্তি বা স্থিতিস্থাপকতার কারণেই গাছটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জিলানী বিগদাদি নামে একজন লিখেছেন, ‘অনেকে…বিজ্ঞান দেখাচ্ছে! তবে নিশ্চয়ই খোদার কেরামত বা কোনো রহস্য আছে!! সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। তবে গাছকে পূজা/তাবিজ/মানত এগুলো হারাম। এখানে বিজ্ঞান নেই, থাকলে গাছ উলটা দিকে পড়তো, গাছের ওজন ও কাটিং সম্পর্কে ধারণা থেকে ব্যাখ্যা করলাম।
স্থানীয়রা জানান, আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ির একটি পুকুর পাড়ে থাকা বিশাল আকৃতির একটি কড়ই গাছ গত ২৭ এপ্রিল ঝড়ে শেঁকড়সহ মাটিতে পড়ে যায়। এভাবে ছিলো প্রায় ১ মাস। পরে ডালপালা কাটাসহ গাছের অনেক অংশ কেটে ফলা হয়। এরই মধ্যে গত এক সপ্তাহ আগে গাছটি আবার “দাঁড়িয়ে” যায়।
পরে স্থানয়ি একটি মহল গাছের নীচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামেরসহ দূর-দুরান্ত থেকে শত শত মানুষ আসেন গাছটি দেখতে। গাছের শিকড়, ছাল নিয়ে যায় অনেকে। আবার কেউ কেউ গাছের গোড়ায় মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালাতে থাকে। গাছটিকে ঘিরে চারিদিকে নিশান টানিয়ে দেয়া হয়।
মুন্সী বাড়ির পরিবারের সদস্য শারমীন সুলতানা দাবি করেন, তিনি গাছটি পড়তেও দেখেছেন, উঠার সময়ও দেখেছেন। মাস দেড়েক আগে প্রচন্ড ঝড়ে গাছটি পড়ে যায়। গাছটি কেটে টুকরা টুকরা করার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়। দেখামাত্রই তিনি চিল্লাফাল্লা শুরু করেন। এরপর বাড়িসহ আশেপাশের লোকজন বিষয়টি দেখেন। পরিবারের সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, ‘এটি আমার এক ভাতিজার গাছ। তুফানে পড়ে গেলে বিক্রি করা হয়। গাছ কাটার পর এটি আবার দাঁড়িয়ে যায়। এটা সরাসরি আল্লাহর কুদরত।
গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন কিভাবে কি হয়েছে। এখন গাছ দেখতে প্রতিদিন শত শত লোক আসেন। মানত করেন। আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালান। অনেকে শিকড় নেন। তাদের ধারণা এতে রোগ বালাই ভালো হবে।’
আঁখি বেগম নামে এক প্রতিবেশি বলেন, ‘গাছটি পড়ে থাকার সময় এর উপর দিয়ে চলাচল করেছি। এখন গাছটি দাঁড়িয়ে গেছে। আমরা যতটুকু পারি গাছটিকে সম্মান করছি।
কাঠুরিয়া মোঃ আমিন মিয়া বলেন, ‘গাছটি ঝড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শেঁকড়সহ উল্টে যায়। ডালা কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যায়। গোড়া কয়েক ইঞ্চি জায়গা কেটে দিলে এটি পড়ে যাবে। এখানে জিন-ভূত বলে কিছু নেই। তবে মানুষ ভিড় করছে গাছটি দেখতে।
অবশেষে কাটা হলে আখাউড়ার “আলোচিত” কড়ই গাছটি