ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ। বদলে যাচ্ছে জলবায়ু। পরিবর্তনের এই সুরে নতুন বাস্তবতায় সাজছে বিশ্ব।

প্রকৃতির এই রূপান্তর যেমন পরিবেশের চেহারায় প্রভাব ফেলছে, তেমনি প্রভাবিত হচ্ছে ঘাস থেকে মহীরুহ—সমগ্র উদ্ভিদজগৎ। প্রভাব পড়ছে বরফে ঢাকা পাহাড়ে, মহাসাগরের গভীর অতল জগতেও। সমুদ্রের পরিবর্তিত স্রোত ও তাপমাত্রার আবর্তে বদলে যাচ্ছে জলজ প্রাণীকূলের স্বাভাবিক জীবনচক্র।

অন্যদিকে, সুযোগসন্ধানী ভাইরাসগুলোও খোলস বদলে আরও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। কখনও কখনও তাদের বিধ্বংসী ক্ষমতার কাছে পারমাণবিক শক্তিও অসহায় মনে হয়। অবশ্য মানবসৃষ্ট নানা কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে শিল্পায়ন ও দূষণ, এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম পরোক্ষ কারণ—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কী করছি?

নিজেদের বাসযোগ্য পৃথিবীকে রক্ষা করতে কতটা সচেতন? বুকে হাত দিয়ে কি বলতে পারি, গত এক বছরে আমরা কয়টি গাছ লাগিয়েছি?

আজ ৫’ই জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। নানা প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আলোচনা, সেমিনার, প্রচারাভিযান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণার ঝড় উঠবে।

কিন্তু বলুন তো, শুধু দিবস পালনেই কি পরিবেশ বদলাবে?

সারা বছর যত গাছ কাটা হয়, তার অর্ধেক গাছ কি নতুন করে রোপণ করা হয়? বন বিভাগের জরিপ কি প্রকৃত পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে ? ১৯৭৪ সাল থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। প্রশ্ন থাকে, ১৯৭৪ সালের তুলনায় আমাদের নদীগুলোর দূষণ কতটা কমেছে ? নদীর মাছের প্রজাতি কমেছে কি ? ১৯৭৪ সালের সব প্রজাতি এখনও কি আছে নাকি বিলুপ্তির পথিক হয়েছে ?

আমাদের সমাজে এখনো অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে নিজেকে আধুনিকতার প্রতীক ভাবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ছবিগুলোও যেন সেই বার্তাই দেয়।

অন্যদিকে, কলকারখানার বর্জ্য যদি নদীতে না ফেলা হয়, তবে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়। পরিবেশের মূল্য চুকিয়ে আমরা ভোগ করি রঙিন পোশাক, আধুনিক জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বাহারি গল্প। অথচ সেই উন্নয়নের হিসাবের খাতায় প্রকৃতির ক্ষতির অঙ্কটি প্রায়ই অনুপস্থিত থেকে যায়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মসমালোচনার দিন। প্রশ্ন করার দিন—আমরা কি সত্যিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে চাই, নাকি কেবল দিবস পালনের মধ্যেই আমাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ?

কবে থেকে, কিভাবে পরিবেশ দিবস পালন শুরু হয়েছিল সেই আলোচনার চেয়ে আমরা আমাদের বাসযোগ‍্য পৃথিবীকে বাঁচাতে কি করছি ? কতটা করছি? সেটার জরীপ সহ তথ‍্য জনগনের কাছে তুলে ধরা যেমন জরুরি তেমনই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে জনগনের দ্বারে দ্বারে
জলবায়ু রক্ষায় রক্ষাকবচ তৈরী করা খুব বেশি জরুরী।
আসুন নিজে সচেতন হই। অপরকে সচেতন করি ।

সবুজে সবুজে সবুজ সতেজ পৃথিবী গড়তে সকলে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ে এগিয়ে চলি।
সবুজ পৃথিবী হোক আমাদের।
সবুজ পৃথিবী হোক আমাদের আগামীর।

লেখক : ন. নাহার আনছারী
কবি, গল্পকার ও আইনজীবী