হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘলবাগ গ্রামে সরকারি ভূমি উদ্ধারের পর গ্রামবাসী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণসহ বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীঘলবাগ গ্রামের বাসিন্দাদের ব্যবহৃত একটি সরকারি ভূমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যক্তি হিরা মিয়া ও তার সহযোগীরা দখলে রেখেছেন। একসময় ওই জমিতে গ্রামবাসী গবাদিপশু চরানোসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে জমিটি দখল করে সেখানে পুকুর খনন করা হয় বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে পূর্বে একাধিক সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার শর্তে হিরা মিয়াকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হলেও তিনি জমির দখল ছাড়েননি বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নানসহ এলাকাবাসী বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ মে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিমুল আক্তারের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও ওয়াকফ সম্পত্তি দখলমুক্ত ঘোষণা করা হয় এবং সেখানে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ভূমি উদ্ধার অভিযানের পর হিরা মিয়া তার ভাগ্নে জহিরুল হক সেলিমের সহযোগিতায় গ্রামের ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং লুকড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দেবী প্রসাদ করকে আসামি করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
তাদের দাবি, মামলার মাধ্যমে উদ্ধারকৃত জমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা জানান, উদ্ধারকৃত জমিতে ইতোমধ্যে একটি ঈদগাহ নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা মুফতি সালাউদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গ্রাম সরকার উসমান আলী, আব্দুল মালেক, আব্দুল মান্নান, শাহিদ মিয়া, সিরাজ মিয়া, আব্দুল্লাহ মিয়া, আরজু মিয়া, কাছুম আলী, সানু মিয়া, আলাউদ্দিন মাস্টার, আব্দুর রহিম, ফারুক মিয়া, সফর আলী, নয়ন মিয়া, মোশাহিদ, তৈয়ব আলী, কাজল মিয়া, তারিক মিয়া, লাউছ মিয়া, আনোয়ার হোসেন, ফজর রহমান, শামসুল ইসলাম, আফরোজ মিয়া, জামাল হোসেন, রুস্তম আলী, উস্তার মিয়া, শফিক মিয়া ও সেলিম মিয়াসহ অনেকে।
