বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মঙ্গলবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ–সুইজারল্যান্ড রাজনৈতিক পরামর্শ (Political Consultations)-এর ষষ্ঠ রাউন্ড বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুই দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) **মো. নজরুল ইসলাম**। সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ফেডারেল ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের সহকারী পররাষ্ট্র সচিব এবং এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান **রাষ্ট্রদূত মার্কাস লিটনার**।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ‘মূল স্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশে সুইস বিনিয়োগের ধারাবাহিক উপস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখা, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডও ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে।
নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে শুধু বাণিজ্য নয়, বরং বহুমুখী সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—
* দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশ
* জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা
* স্বাস্থ্যখাতের সহযোগিতা
* প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন
* তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)
* বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি
উভয় পক্ষ এসব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে মত বিনিময় করে।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রোহিঙ্গা সংকট
আলোচনায় দুই দেশ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত মনোযোগ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
বৈঠকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সমসাময়িক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত মার্কাস লিটনার এবং তার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী **শামা ওবায়েদ ইসলাম**-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা
ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ভবিষ্যতে পারস্পরিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
