মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পরিবারের সদস্যরা এবং তাঁর জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। সাম্প্রতিক সময়ে শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগজনিত সমস্যা এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর আগে স্ট্রোকের পর কয়েক বছর ধরে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত করে তোলে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীনতার পর তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি বাণিজ্য, শিল্প ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে ছিলেন। দেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ নিজ জেলা ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে জোহরের নামাজের পর ভোলা জেলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।