রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ২ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সকালেই কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় তাদের আদালতের এজলাসে উপস্থিত করা হয়। এর আগে গত ২৪ মে আদালত মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান তদন্ত শেষে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

তদন্ত নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে এবং অপর আসামিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের পর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় তার স্ত্রীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, আদালতের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইনগতভাবে অভিযোগপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বিবেচিত হবেন।

দ্রুত বিচার প্রত্যাশা

শিশু রামিসা হত্যা মামলা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মানবাধিকার সংগঠন, শিশু অধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মামলাটির দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে ভুক্তভোগী পরিবারসহ দেশবাসীর দৃষ্টি রয়েছে।