বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী নোয়াখালী জেলা শহরে অত্যন্ত ‘সাদাসিদে ও দায়সারা’ভাবে পালিত হয়েছে। এতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে দলটির তৃণমূল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে।
৩০ মে (শনিবার) জেলা বিএনপির উদ্যোগে কোনো রকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া কেবল মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি পার করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশা উগড়ে দিচ্ছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ বর্তমানে দেশে বিএনপির অনুকূল পরিবেশ থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বাধা না থাকার পরেও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কেন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপনে উদাসীনতা দেখালেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ফেসবুক পোস্টগুলোতে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও নেতৃত্বের অদূরদর্শিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। যুবদল ও ছাত্রদলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা ফেসবুকে লিখেছেন,
”যে দল দিয়ে আজ অনেকে নেতাগিরি, এমপি-মন্ত্রী গিরি কিংবা প্রশাসক গিরি করছেন, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী কোনো রকমে দায়সারা হলো কেন?
জেলা বিএনপির নেতৃত্বে শুধুমাত্র মসজিদে মিলাদ পড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করা হলো।
তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে প্রতিকূল পরিবেশেও এর চেয়ে ভালো কর্মসূচি পালিত হতো। অথচ এখন সুসময় থাকার পরেও জেলা বিএনপি থেকে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি, আলোচনা সভা বা দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। অঙ্গসংগঠনগুলো নিজ উদ্যোগে বড় কোনো আয়োজন করতে গেলে উল্টো মূল দলের সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে মাসির দরদ দেখানোর মতো কটূক্তি শুনতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নেতাকর্মীদের দাবি, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল। মিলাদ ও দোয়ার পাশাপাশি গরিব-দুস্থদের মাঝে চাল, ডাল, তেল, লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা যেত।
এছাড়া, বর্তমান প্রজন্মের কাছে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবহুল তথ্য-উপাত্ত ও ছবি প্রদর্শন এবং সপ্তাহব্যাপী প্রজেক্টরের মাধ্যমে তার রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার দাবি ছিল মাঠপর্যায়ের কর্মীদের। কিন্তু এর কোনো ছিটেফোঁটাও নোয়াখালীতে দেখা যায়নি।
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, জেলা বিএনপির বর্তমান কার্যক্রম এখন ‘কর্তার ইচ্ছায় কীর্তন’-এ পরিণত হয়েছে। দলের এই দুঃসময়ের কাণ্ডারির প্রতি এমন ‘নিরব, নিভৃত ও অবজ্ঞাপূর্ণ’ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাঠপর্যায়ের এই প্রকাশ্য ফেসবুক বিদ্রোহ নোয়াখালী জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সমন্বয়হীনতাকে আবারও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
০১৭১৭৭৪০৪২২
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী দায়সারা, ফেসবুকে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা