পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্যাগ, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক।”

তিনি বলেন, ঈদুল আজহা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, মানবিকতা ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক মহান শিক্ষা। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান ও ত্যাগের আদর্শ মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কোরবানির অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ এবং মনের পশুত্বকে পরাভূত করার মধ্যেই এর প্রকৃত শিক্ষা নিহিত রয়েছে।”

তিনি সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তারা যেন অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করেন। এর মধ্য দিয়েই সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ এবং চামড়া সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

ভিডিও বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। তিনি বলেন, “ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করুন এবং মানবজাতির জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করুন।”