শেরপুরের নকলা-নালিতাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এই উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সোমবার (২৫ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নকলা উপজেলার শিববাড়ী মোড় সংলগ্ন সড়কের মাঝখানে প্রায় ৩০ মিটার এলাকাজুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় মাস খানেক আগেই ওই অংশের কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি নকলা-নালিতাবাড়ি হয়ে সরাসরি নাকুগাও স্থল বন্দর গিয়ে শেষ হয়েছে। বিশেষ করে রাতে গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় কয়েকজন বলেন, “রাস্তার দুই পাশ ঠিক থাকলেও মাঝখানের অংশ ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় কাজের মান ভালো ছিল না। কোটি টাকার প্রকল্প হলেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।”
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (আরএইচডি) শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন,
“নকলা থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত সড়কের একটি অংশে কাজ চলাকালে বৃষ্টি হওয়ায় ওই অংশ নষ্ট হয়ে গেছে।” এটি বড়কোন সমস্যা না। আমরা ঈদের পড়ে যেসব জায়গাতে গর্ত তৈরি হয়েছে সেটা ঠিক করে দিব। তাছাড়া কাজ এখনো শেষ হয়নি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি বৃষ্টিই কারণ হয়, তাহলে একই সড়কের অন্য অংশ অক্ষত থাকলেও শুধু মাঝখানের অংশই কেন ক্ষতিগ্রস্ত হলো? তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ডিবিএস ওয়্যারিং কোর্সের আওতায় পরিচালিত এ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “শামীম এন্টারপ্রাইজ ইউডিসি জেভি”। তবে এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংশ্লিষ্ঠদের সাথে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম বা ফোন নাম্বার চাইলে তারা দেয়নি।
এদিকে দ্রুত সড়ক সংস্কার ও কাজের মান তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ব্যস্ত এই মহাসড়কে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।