‎‎নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার। তার ওপর পরিবারের চার-চারজন সদস্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম। এমন এক চরম মানবিক বিপর্যয় ও মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের এক অসহায় পরিবার।
‎
‎​উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাজির খেওয়ার দক্ষিণ-পূর্ব পাশে বৃদ্ধ আবু তাহেরের বাড়ি। জরাজীর্ণ এক টুকরো ঘর ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই এই পরিবারের। ৬ সদস্যের এই অভাবের সংসারে ৪ জনই প্রতিবন্ধী। ভাঙা ঘরে জন্ম নেওয়া এই মানুষগুলোর দিন কাটছে চরম অনাহার আর অর্ধাহারে।
‎
‎​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আবু তাহের নিজেই। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয়নি। সম্প্রতি এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তার হাত ভেঙে যায়। নিজের শারীরিক অক্ষমতার পাশাপাশি এই দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি আর কোনো ভারী কাজ করতে পারছেন না। ফলে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসটিও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
‎
‎​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবু তাহেরের থাকার ঘরটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ঝড়-বৃষ্টির এই দিনে চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতর। চারজন প্রতিবন্ধী সদস্যকে নিয়ে এই ভাঙা ঘরে রাত কাটানো যেন এক দুঃস্বপ্নের মতো। অর্থাভাবে যেমন বন্ধ রয়েছে অসুস্থ সদস্যদের চিকিৎসা, তেমনই ঘরে নেই দুমুঠো চাল কেনার মতো টাকা।
‎​আবু তাহের অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “হাতটা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমি আর ভারি কোন কাজ করতে পারি না। ঘরে চারজন প্রতিবন্ধী মানুষ। নিজেরা চলুম কেমনে আর ইগুনরে খাওয়ামু কী? কেউ একটু সাহায্য না কইললে আমরা না খাই মরি যামু।
‎
‎
‎​প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটির অবস্থা দিন দিন আরও করুণ হয়ে উঠছে। চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, তিন বেলা খাবার জোটানোই এখন তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
‎
‎​ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের এই অসহায় পরিবারটিকে বাঁচাতে এবং ৪ জন প্রতিবন্ধী সদস্যের চিকিৎসা ও খাদ্যের জোগান দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
‎
‎​