আল-জাজিরার-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, Israel-এর গাজা অভিযান চলাকালে বিশ্বের অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বশাসিত অঞ্চল বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ইসরাইলে ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক চালান পৌঁছেছে। এসব চালানের আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৮ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।

Advertisement

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট সামরিক আমদানির ৪২ শতাংশের বেশি এসেছে দেশটি থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যারা মোট সরবরাহের প্রায় ২৬ শতাংশ দিয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসরাইলি বাহিনীর জন্য ভারী কামানের গোলার অংশ, বিস্ফোরক উপকরণ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ইসরাইলের মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ জুগিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপ ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার ঘোষণা দিলেও আড়ালে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল। এর মধ্যে স্পেন, কানাডা, ফ্রান্স ও ইতালির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তুরস্ক ও ব্রাজিল ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেও যুদ্ধের শুরুর দিকে তাদের অঞ্চল থেকেও কিছু সামরিক বা প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ ইসরাইলে প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গণহত্যার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও যেসব দেশ অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ নেটওয়ার্কই গাজায় দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে ইসরাইলকে সক্ষম করেছে।