প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভূমি সেবা নিতে গিয়ে জনগণকে আর দুর্নীতি কিংবা হয়রানির শিকার হতে হবে না। সরকার এমন একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে মানুষকে সেবার জন্য অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমি সেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি সরকার আগেই দিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও নির্বাচনী ইশতেহারেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ভূমি প্রশাসনের অধিকাংশ সেবা এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে নাগরিকরা দ্রুত, সহজ ও কার্যকরভাবে সেবা পেতে পারেন।

তিনি বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হবে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জটিলতা নিষ্পত্তিও তত সহজ হবে। অনলাইনভিত্তিক সেবা চালুর ফলে মানুষের দুর্ভোগ যেমন কমবে, তেমনি ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা ও সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও বাধা সৃষ্টি করছে। এ বাস্তবতায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ভুল ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রস্তুতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ভূমি সেবা মেলার মাধ্যমে জনগণের কাছে সরকারের আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে চায়। দীর্ঘ সময়ের শাসন-শোষণের অভিজ্ঞতার পর জনগণ এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকার ও সেবার প্রতিফলন দেখতে চায়। সে কারণেই সরকার নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “জমি শুধু একটি সম্পদ নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, জীবিকা, অর্থনৈতিক স্থিতি ও ভবিষ্যতের ভিত্তি।”

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়া কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।