ইসরায়েলের একটি সামরিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে দেশটিতে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত জেরুজালেমের পশ্চিমে বেইত শেমেশ এলাকায় শনিবার রাতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, যা দূরবর্তী এলাকাগুলো থেকেও দৃশ্যমান ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিস্ফোরণের পর মাশরুম আকৃতির ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, যা ঘটনাটিকে ঘিরে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

Advertisement

তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান টোমের এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা বা হামলার ঘটনা নয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নের অংশ হিসেবে একটি পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছিল এবং সেটি “সফলভাবে সম্পন্ন” হয়েছে।

কান নিউজে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে জননিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি ছিল না। তবে বিস্ফোরণের ব্যাপকতা এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি ব্যাখ্যা না আসায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনায় এ ধরনের বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামরিক-শিল্প অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং অস্ত্র পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করায় জল্পনা আরও বাড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা পরিষ্কার হয়। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত মাত্রা ও এর প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।