প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের প্রকৃত দাবি ও প্রয়োজন বিবেচনায় কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ স্থানীয় উন্নয়ন দাবিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে তিনি সংক্ষিপ্ত এ পথসভায় অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী চালুর কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের প্রায় ৬০ হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর হাতে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”

দেশ পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও স্বৈরশাসনের কারণে বাংলাদেশ সম্ভাবনার তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রত্যাশার সূচনা করেছে এবং এখন প্রয়োজন অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পথসভায় স্থানীয় নেতারা কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং কুমিল্লা সদর হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যদি কুমিল্লা বিভাগ জনগণের প্রকৃত ও যৌক্তিক দাবি হয়ে থাকে, তবে ইনশা আল্লাহ তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি জানান, কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রভাব এখনও দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

এক দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

এর আগে কুমিল্লা জেলায় প্রবেশের পর বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।