ভারতের উত্তরপ্রদেশে আকস্মিক ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাক-মৌসুমি এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভাদোহী, ফতেহপুর ও বুধাউনসহ কয়েকটি জেলা। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত, দেয়াল ধস এবং গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
বুধবার সংঘটিত এই দুর্যোগে ভাদোহী জেলায় ১৬ জন, ফতেহপুরে ৯ জন এবং বুধাউনে ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতায় বহু স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সঙ্গে সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
ভাদোহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কুনওয়ার বীরেন্দ্র কুমার জানান, জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আলাদা কয়েকটি ঘটনায় সেখানে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
ফতেহপুর জেলাতেও ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার খাগা তেহসিলে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন নারী। এছাড়া সদর তেহসিলে বাড়ির দেয়াল ধসে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়।
প্রাণহানির পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের জমি প্লাবিত হয়েছে এবং বহু গবাদি পশু মারা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা এবং দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে আরও বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
