মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূল থেকে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের ঘটনা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, অজ্ঞাত পরিচয়ের সশস্ত্র ব্যক্তিরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটি জব্দ করা হয়। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও জাহাজটির মালিকানা, বহন করা পণ্য কিংবা জব্দকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাত ও সামুদ্রিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে যে সামরিক ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে হরমুজ প্রণালিতে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো।

বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তাদের জলসীমার দিকে যাওয়ার সময় ড্রোন হামলার মুখে পড়ে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার প্রশাসনের দাবি ছিল, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সেই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে সৌদি আরব ও বাহরাইন মার্কিন বাহিনীকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক জাহাজ জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব গভীর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।