নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি এনজিওর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০ গ্রাহকের সঞ্চয়ের প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যেতে পারে) বিকেলে টাকা উত্তোলনের দাবিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সংস্থাটির শাখা ব্যবস্থাপক ও দুই মাঠকর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে মদন উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহকদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক সঞ্চয় সংগ্রহ করতেন মাঠকর্মী আল জান্নাত তুর্কী ও সাবিকুন্নেহার। অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে শুধু সঞ্চয়ী বইয়ে লিপিবদ্ধ রাখা হতো।

গ্রাহকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানটি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছিল। কয়েকজনকে আংশিক টাকা পরিশোধ করা হলেও অধিকাংশ গ্রাহক তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত পাননি। এ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কয়েক দফা কর্মকর্তা বদল করা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় অফিস বন্ধ রাখা এবং গোপনে কার্যক্রম পরিচালনার ঘটনাও ঘটেছে।

বুধবার বিকেলে গ্রাহকরা অফিসে ব্যবস্থাপকসহ তিনজনকে দেখতে পেয়ে তাদের ঘেরাও করেন। এ সময় চাকরি ছেড়ে দেওয়া দুই মাঠকর্মী আল জান্নাত তুর্কী ও মুনা আক্তার নিজেদের কাগজপত্র নিতে অফিসে গেলে তাদেরও অবরুদ্ধ করা হয়। পরে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মধ্যস্থতায় দুই নারী কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শাখা ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান ভূঁইয়াকে আটকে রাখা হয়।

পরে পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন, প্রায় ১৫০ সদস্যের প্রায় ১৮ লাখ টাকা সঞ্চিত রয়েছে।

এ বিষয়ে মাঠকর্মী আল জান্নাত তুর্কী বলেন, “আমি দেড় বছর এখানে কাজ করেছি। সদস্যদের কাছ থেকে যা সংগ্রহ করেছি, অফিসে জমা দিয়েছি। এখন আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি এবং কাগজপত্র নিতে এসেছিলাম।” তবে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত না পাওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

অন্য মাঠকর্মী মুনা আক্তার জানান, তিনি মাত্র দেড় মাস কাজ করেছেন এবং সম্প্রতি চাকরি ছেড়েছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক হায়দার আলী অভিযোগ করেন, আগের ব্যবস্থাপক সাজেদুর রহমান সুমনের মাধ্যমে বিভিন্ন আশ্বাসে তিনি প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে অফিসে ঘুরেও টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।
আরেক গ্রাহক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “আমি ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলাম। এখনো ২০ হাজার টাকা পাই। ছয় মাস ধরে ঘুরছি, কিন্তু টাকা দিচ্ছে না।”

শাখা ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া দাবি করেন, তিনি মাত্র ১৫ দিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। তার ভাষ্য, “কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আগামী ২০ তারিখের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে। তবে গ্রাহকরা তা মানতে রাজি নন।”

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “এনজিও কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”