ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ব্যবসায়ীর ঘরের তালা ভেঙ্গে ৩৫ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় পুলিশ ঢাকা থেকে দুই চোরকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে নিয়ে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরির ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- মুক্তাগাছার তারাটি ইউনিয়নের বিরাশি (মধ্যপাড়া) গ্রামের মো. সিরাজুলের ছেলে সৌরভ মিয়া(৩০) ও একই গ্রামের মো. আবুল কালাম কালু মিয়ার ছেলে মো. জনি(২৫)। বুধবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে ডিএমপি পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার মুক্তাগাছা থানা পুলিশ তাদেরকে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

বাদীর অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছার বিরাশি গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ আশরাফুল আলমের বাবা আঃ মোতালেব জমি কেনার জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা ঘরে রেখে সম্প্রতি হজে চলে যান। আশরাফুলের মায়ের শয়ন কক্ষে একটি স্টিলের ট্র্যাংকে টাকাগুলো রেখে তালা লাগিয়ে রাখা হয়। গত ১ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যার দিকে আশরাফুলের মা মোছা. হাছিনা বেগম ঘরে তালা দিয়ে পাশের বাড়িতে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজার তালা এবং স্টিলের ট্র্যাংকের তালা ভেঙ্গে চোরেরা ৩৫ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নামে। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে চোর সনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারে মাঠে নামে। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার তাদেরকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার সৌরভ ও জনির দেয়া তথ্য মতে ঢাকার শাহাজাহানপুর থানার এ/২৮ শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলা হতে সৌরভ মিয়ার ভাড়া বাসার শয়ন কক্ষের ভিতর থেকে কৌসলে লুকিয়ে রাখা ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করে।

অপরদিকে গ্রেপ্তার সৌরভের খালা শারমিন আক্তার শিখার বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের চর কুষ্টিয়া গ্রামের গোয়াল ঘরের মাচার নিচ হতে ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম জানান, মামলার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঘটনাটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত দুই চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চুরির ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আলামত উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

ওসি জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই জনই পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোর চক্রে সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারধীন রয়েছে। তার মধ্যে ১ নং আসামী সৌরভের বিরুদ্ধে ঢাকা রেলওয়ে থানার মামলা নং-২(১০)২৫ ধারা-২০০২ সালের আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী আইন (দ্রুতবিচার) এর ৪/৫, এবং ২ নং আসামী মোঃ জনির বিরুদ্ধে ঢাকা রেলওয়ে থানার মামলা নং-২(১০)২৫ ধারা-২০০২ সালের আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী আইন (দ্রুতবিচার) এর ৪/৫ এবং শাহাজাহানপুর থানার মামলা নং-৩ (৭)২৩ জিআর নং-১৬৫/২৩ বিশেষ ট্রাইবুন্যাল মামলা নং-১৩৪৪৭/২৩ ধারা-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন এর ৩৬(১) এর ৮(গ)/১৯(ক) বিচারাধীন আছে।