লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত অপর ব্যক্তি একজন সিরীয় নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, নাবাতিহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে চালানো ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে নিহত দুই বাংলাদেশির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি রোববার রাতে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার সময় বাড়িটিতে অবস্থানরত শ্রমিকরা সরাসরি বিস্ফোরণের শিকার হন।

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতের অন্যতম প্রধান ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। যদিও কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে সীমান্ত এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল দাবি করছে, এসব হামলার লক্ষ্য হিজবুল্লাহর অবস্থান ও অবকাঠামো। তবে স্থানীয় সূত্র ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব অভিযানে বহু বেসামরিক মানুষও নিহত বা আহত হচ্ছেন।

অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। সোমবারও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন ড্রোন হামলার দাবি করেছে সংগঠনটি।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামেনি। লেবাননের স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা বলছে, চলমান হামলায় আবাসিক এলাকা, অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।