সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কালকি স্লুইসগেট দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে লোনাপানি প্রবেশ করানোর ফলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার হাজারো কৃষক।
এই সংকট নিরসন এবং লোনাপানি প্রবেশ বন্ধের দাবিতে সোমবার (১১ মে) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডুর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর পক্ষে বাংলাদেশে লিঙ্গ-সংবেদনশীল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (GRDRRIB) প্রকল্পের আওতায় আনুলিয়া ইউনিয়নের নারী নেতৃত্বাধীন “সংগ্রামী বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দল”-এর সভাপতি আফরোজা খানমের নেতৃত্বে কোষাধ্যক্ষ সালমা খাতুন, সদস্য রোজিনা খাতুন ও আনজুয়ারা খাতুন ইউএনও’র হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে একদল দুর্বৃত্ত নিজেদের স্বার্থে আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের কালকি স্লুইসগেটের পাট বসিয়ে কপোতাক্ষ নদের লোনাপানি বিলে প্রবেশ করিয়েছে। এতে গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া ও ফটিকখালীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ধান কাটার আগেই নোনা পানিতে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের সময় নিয়মিত লোনা পানি প্রবেশ করায় এসব জমিতে আউশ চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে নারী নেতৃত্বাধীন বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা জানান, লোনাপানির প্রভাবে শুধু ধান নয়, পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এলাকার গাছপালা মারা যাচ্ছে এবং মাঠের ঘাস নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া পুকুর ও জলাশয়ে লোনাপানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের রান্নাবান্না ও গোসলের জন্য ব্যবহৃত মিষ্টি পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
তারা আরও জানান, একটি প্রভাবশালী মহল বিলে মাছ ধরা ও মৎস্য ঘেরে পানি তোলার উদ্দেশ্যে স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে স্লুইসগেটের পাট বসিয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে পুরো জনপদকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্মারকলিপিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দুটি দাবি তুলে ধরা হয়—
১. অবিলম্বে কালকি স্লুইসগেট দিয়ে লোনাপানি প্রবেশ স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. স্লুইসগেট তদারকির জন্য স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও কৃষকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন।
নারী নেতৃত্বাধীন বেড়িবাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং স্লুইসগেট সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু স্মারকলিপি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান সংগঠনের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, এমবাসি অব সুইডেন, ঢাকা ও ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় এএফএডি, এএসডিডিডব্লিউ এবং বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলাদেশে লিঙ্গ-সংবেদনশীল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
