নেত্রকোনার মদনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে বিষয়টি জানতে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মূল্যায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নেওয়া যাবে না। এ ব্যয় স্লিপ ফান্ড থেকে সমন্বয় করার কথা রয়েছে।

সোমবার সরেজমিনে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের রামপুর কান্দাপাড়া ও বাড়রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় শিফটে গণিত পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। রামপুর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭২ জন এবং বাড়রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় বলে শিক্ষকরা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

রামপুর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন জানায়, পরীক্ষার ফি বাবদ তার কাছ থেকে ৪০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, সে ৫০ টাকা দিয়েছে।

বাড়রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসাইন জানায়, সে ৫০ টাকা দিয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশকা জানায়, সে ৪০ টাকা দিয়েছে। তারা আরও জানায়, এর আগে কখনও পরীক্ষার জন্য ফি দিতে হয়নি।

রামপুর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাজী মান্না বেগম বলেন, এ বিষয়ে আমরা শিক্ষা কমিটিতে আলোচনা করেছি। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ফি নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে স্লিপ ফান্ডের টাকা থেকে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হতো। শিক্ষা অফিস থেকে প্রশ্নপত্র কিনতে হয়েছে এবং খাতাও কিনতে হয়েছে। এতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

অন্যদিকে, বাড়রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে শিক্ষক এমদাদ স্যার কথা বলেছেন। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টাকা নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শুধু আমার স্কুল নয়, প্রায় সব স্কুলেই ফি নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাসনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ফি নেওয়ার বিষয়ে অফিস থেকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে না।