প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি যেন পুলিশ বাহিনীকে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আমাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে—পুলিশ হবে জনগণের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের রক্ষক।”

রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনালগ্নে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা এবং রাজারবাগে পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধ দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেন, “রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মার্চে যখন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগে একত্রিত করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল ছিল, সেটি এখনও গবেষণার বিষয় হতে পারে।”

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে গঠিত বর্তমান সরকার মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “দেশের জনগণ দীর্ঘদিন নির্যাতন, হামলা-মামলা ও ভয়ভীতির মধ্যে ছিল। এখন তারা শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের ওপরই সবচেয়ে বেশি বর্তায়।”

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই বর্ণিল প্যারেড শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, আত্মমর্যাদা এবং একটি আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকারের প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে মানবিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।