রাজধানীর বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডিমের দাম। পাশাপাশি ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, টাউন হল বাজার ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের বাদামি রঙের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। অথচ এক মাস আগেও একই ডজন ডিমের দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে।
অর্থাৎ, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
চাহিদা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ডিমের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বাড়ায় পাইকারি পর্যায়েই দাম বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের এক ডিম বিক্রেতা বলেন, “গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই খুচরা পর্যায়েও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন যাত্রাবাড়ী ও টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ীরাও।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি
ডিমের পাশাপাশি মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।
এছাড়া—
- সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি
- হাইব্রিড সোনালি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি
অন্যদিকে, গরুর মাংসের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।
ক্রেতাদের উদ্বেগ
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, ডিম ও মুরগির মতো সাধারণ প্রোটিনজাত খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
ভোক্তারা বাজার তদারকি জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।