মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, “আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি এবং লক্ষ্য খুব কাছে।” তবে তিনি যুদ্ধ বন্ধের কোনো সময়সীমা বা কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, নির্দিষ্ট সীমা ছাড়া হামলা চালিয়ে গেলে তেলের সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমবর্ধমান হামলা তেলের মূল্য বাড়ানোর মূল কারণ। সম্প্রতি কাতারি জলসীমায় ‘কাতারএনার্জি’র লিজ নেওয়া একটি ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি বেড়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াংকা সচদেবা বলেন, “যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক উদ্যোগ না থাকায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম নতুন উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে।”
বর্তমান বাজার ও প্রভাব
বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেলে ১০৭.৪৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা ৬.৩৩ ডলার বা ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেলে ১০৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৫.২৮ ডলার বা ৫.৩ শতাংশ বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, এপ্রিল থেকে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে এই সরবরাহ সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করবে। হরমুজ প্রণালীর অবস্থা ও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম না শুধু আমেরিকাতেই, বরং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি, পরিবহণ খাত এবং শিল্প উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
