সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অপহরণের তিন দিন পর মুক্তিপণ ছাড়াই উদ্ধার করা হয়েছে প্রাণী চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্যকে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন বাজার এলাকায় তাকে রেখে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি নিরাপদে ফিরে আসেন।
আটককৃতরা হলেন—মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মীরগাং গ্রামের চিহ্নিত হরিণ শিকারি জুব্বার গাজী, গাবুরা ইউনিয়নের শাহিনুর রহমান এবং আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু মাহমুদুল হাসান ডন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, জুব্বার গাজী, মাহমুদুল হাসান ডন ও শাহিনুর রহমানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র সুন্দরবনের মাথাভাঙা নদীর ধলের খাল এলাকায় অনিমেষকে আটকে রাখে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদ লাল্টুর সহযোগিতায় পুলিশের একটি দল রোববার রাত থেকে অভিযান শুরু করে।

একপর্যায়ে অপহরণকারীদের সহযোগী শাহিনের মাধ্যমে সোমবার সকালে অনিমেষকে সুন্দরবন বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দুজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনিমেষ পরমান্যের সঙ্গে প্রতিবেশী ফজলুল হকের ছেলে খলিলের যৌথভাবে একটি জমি ক্রয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রায় ২২ লাখ টাকা মূল্যের ওই জমির দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জমি কেনার জন্য রাখা টাকা হাতিয়ে নিতেই তাকে অপহরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পশু চিকিৎসা সেবা দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে অনিমেষ নিখোঁজ ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় তার স্ত্রীর মোবাইলে কল করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিনি শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালী গ্রামের মৃত নিতাই পরমান্যের ছেলে।