বোরো ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নেত্রকোনার পূর্বধলার কৃষকরা। মাঠে পাকা ধান থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা কাটতে, শুকাতে ও বাজারজাত করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। এর সঙ্গে ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের হতাশা আরও বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পূর্বধলায় ২১ হাজার ৮২২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিচর্যায় ফলনের সম্ভাবনাও ভালো ছিল। তবে বৈশাখের শুরুতেই দফায় দফায় কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি ও টানা বর্ষণে সেই আশায় ধাক্কা লেগেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ মাঠে ধান পেকে গেলেও টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। নিচু এলাকার অনেক জমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ঝড়ো হাওয়ায় ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পানিতে ডুবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মণ্ডল নান্টু বলেন, “আমার ইউনিয়নের গোজাখালী কান্দা, বাড়হা ও নাটেরকোনা এলাকার নিম্নাঞ্চলের বহু জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।”

ধলামুলগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুর রহমান রনি জানান, দেবকান্দা, চোরের ভিটা, এরোয়ারচর, কুড়িকুনিয়া, পাটলী ও ভবানীপুর এলাকায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।

মেঘশিমুল পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষাণী আয়েশা বেগম বলেন, “বর্গা নিয়ে চাষ করেছি। অনেক কষ্টে ধান কেটে সড়কে তুলেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাড়াই করতে পারছি না। ধানে চারা গজিয়ে যাচ্ছে।”

এদিকে উপজেলায় হারভেস্টার মেশিনের স্বল্পতা ও শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি কাটা (৮ শতাংশ) জমির ধান কাটতে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে।

বাজারে ভেজা ধানের দামও কমে গেছে। কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ ধানের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন দিয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোবায়ের আহমেদ বলেন, “টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় ফসল ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব হবে।”

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত ধান কাটার যন্ত্র বাড়ানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা না এলে অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।