যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বাদ জোহর টাম্পা বে এলাকার ইসলামিক সোসাইটিতে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ৪ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, লিমনের মরদেহ ইতোমধ্যে ফিউনারেল হোম কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ধর্মীয় বিধান অনুসারে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে, লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু সম্পর্কেও তদন্ত অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তার মৃত্যুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে, যদিও পুরো মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি। প্রায় আট দিন পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট ২৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দুইটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
লিমন যুক্তরাষ্ট্রের University of South Florida-এ ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাষ্য, তিনি মেধাবী ও সম্ভাবনাময় গবেষক ছিলেন; তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজে গভীর শোক নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠাতে পরিবার, মায়ামি কনস্যুলেট ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এ হত্যাকাণ্ড। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তা ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ব্যবস্থাও আলোচনায় এসেছে।
লিমনের পরিবার ও সহপাঠীরা দ্রুত বিচার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ও তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটির।
