যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের দেওয়া নতুন ধাপভিত্তিক সমঝোতা প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও ওয়াশিংটনের অবস্থান—হরমুজ প্রণালি ও অবরোধ প্রশ্নে কোনো অগ্রগতির আগে পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতা হতে হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র আগে হরমুজ প্রণালির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ও প্রহরা প্রত্যাহার করুক, কিন্তু ওয়াশিংটন সেই পথে হাঁটতে রাজি নয়। তার ভাষায়, “আগে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা, তারপর অন্য সব বিষয়।”
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান সম্প্রতি একটি তিন-ধাপের প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে। এতে প্রথম ধাপে ইরান ও লেবানন সংশ্লিষ্ট সংঘাতের অবসান এবং নতুন হামলা বন্ধের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ইরানের বন্দর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জলপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
তবে এই কাঠামোই মূল বিরোধের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচিকে পরবর্তী ধাপে ঠেলে দিয়ে কৌশলগত সুবিধা নিতে চাইছে ইরান; অন্যদিকে তেহরান চায় প্রথমে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে পরে পারমাণবিক আলোচনায় যেতে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ তিনি বজায় রাখবেন। তার দাবি, এই অবরোধ “বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর” এবং এর মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অচলাবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে দুই পক্ষের মৌলিক মতপার্থক্য। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার নিশ্চয়তা, আর ইরান চায় আগে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ হ্রাস।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট; স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে সেখানে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পাকিস্তান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা এখনও সমঝোতার একটি মধ্যপথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তবে উভয় পক্ষ নিজেদের মূল অবস্থান থেকে না সরে এলে আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতির সম্ভাবনা সীমিত।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও পারমাণবিক ইস্যুর অগ্রাধিকার নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ এখন নতুন সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
