জামালপুরের ইসলামপুরে জরাজীর্ণ টিনের ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে ভাঙাচোরা একটি ঝুপড়ি ঘর—যার চাল ফুঁড়ে দেখা যায় আকাশ, আর বৃষ্টি নামলেই পানি পড়ে ঘরের ভেতর। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই দম্পতির জীবনে নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তাও।
বৃদ্ধ হাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের পচাঁবহলা গ্রামে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। সরকারি সহায়তা হিসেবে একটি বয়স্কভাতার কার্ড থাকলেও তা দিয়ে তাদের ন্যূনতম জীবনধারণও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ টিনের ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ার উপক্রম। রোদ, বৃষ্টি কিংবা শীত—সব প্রতিকূলতা সঙ্গী করেই সেখানে বসবাস করছেন তারা। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দারিদ্র্যে তাদের জীবন যেন থমকে গেছে অনিশ্চয়তার এক অন্ধকার প্রান্তে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আশির কোঠায় পা দেওয়া হাফিজুর রহমান শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ায় বহু আগেই কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে অনেক সময় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলেও কেউ তাদের দেখভাল করেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাফিজুর রহমান বলেন,
“বাবা, ঘরটা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। খাবারের কষ্ট তো আছেই। সন্তানদের কাছ থেকেও কোনো সহায়তা পাই না।”
তার স্ত্রী বলেন,
“অভাবের কারণে অনেক দিন আধাপেটা খেয়ে, কখনও না খেয়েই থাকতে হয়।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তাদের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান এবং নিয়মিত খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে শেষ বয়সে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে বাঁচতে পারবেন এই অসহায় দম্পতি।
স্থানীয়রা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি মানবিক সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।