নেত্রকোনার মদনে চার ধান ব্যবসায়ীর দ্বন্দ্বে এক দরিদ্র নৌকা মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের রামদাসখিলা গ্রামের বাসিন্দা মনু মিয়া চারজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মদন থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বোরো মৌসুমে আয়-রোজগারের আশায় মনু মিয়া একটি স্টিলবডি নৌকা ক্রয় করেন। পরে ঘাটুয়া গ্রামের কাছুম আলীর ছেলে হারুন মিয়া, জয়নাল মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন, মৃত আমজাদ মিয়ার ছেলে জহিরুল মিয়া এবং পদারকোণা গ্রামের রাজ্জাক তালুকদারের ছেলে আল আমীন মৌসুমি চুক্তিতে প্রতিদিন ১১ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়ায় নৌকাটি নেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরে ব্যবসায়িক টাকার লেনদেন নিয়ে চার ব্যবসায়ীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হারুন নৌকাটি তাদের ঘাটে নিয়ে ডুবিয়ে রাখেন। মনু মিয়া নৌকা ফেরত চাইতে গেলে আল আমীন জানিয়ে দেন, তাদের লেনদেনের বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌকাটি ডুবন্ত অবস্থায় তার বাড়ির সামনে থাকবে এবং কোনো ভাড়াও দেওয়া হবে না।
মনু মিয়ার অভিযোগ, তিনি ভাড়া ও পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়। এমনকি এলাকায় থাকতে না দেওয়ার এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গ্রামীণ সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এতে নৌকা ভাড়া ও ক্ষয়ক্ষতিসহ তার প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন মনু মিয়া। নিরুপায় হয়ে গত ২৭ এপ্রিল তিনি মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে হারুন মিয়া ও আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা চারজন মিলে প্রতি বস্তা ধান পরিবহনে ২০ টাকা হিসেবে নৌকা ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রতিদিন যত বস্তা পরিবহন করা হবে, সেই অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধের কথা ছিল। তবে আল আমীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনের জটিলতার কারণে নৌকাটি আটক রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, আল আমীন পাওনা পরিশোধ করলেই নৌকা ছেড়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে আল আমীন বলেন, তাদের সঙ্গে তার লেনদেন নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। নৌকার ভাড়া পরিশোধ করা হলে তার কাছে থাকা টাকাও তিনি পরিশোধ করবেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।