দীর্ঘ প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান। সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর হেলিকপ্টারে প্রকল্প এলাকায় যাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, রুশ প্রতিনিধিদল এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা ও কারিগরি শর্ত পূরণে বিলম্বের কারণে এর আগে কয়েক দফা সময় পিছিয়েছিল। তবে এখন প্রথম ইউনিট জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে এ ইউনিট একাই দেবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক VVER-1200 reactor প্রযুক্তি। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদী-তে পদ্মা নদী-তীরবর্তী এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।