নোয়াখালীর হাতিয়ায় হিন্দু পল্লী চিকিৎসকের দোকানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় পল্লী চিকিৎসা উৎপল চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে হাতিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ওছখালি পুরাতন বাজার এলাকায় পল্লী চিকিৎসক উৎপল চন্দ্র মজুমদারের ফার্মেসীতে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উৎপল ও তার পূর্বপুরুষেরা শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এ জায়গায় বসবাস ও দখলে রয়েছেন। সম্প্রতি স্থানীয় আব্দুল আজিজ জায়গাটির মালিকানা দাবি করেন এবং এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কোর্টে মামলা চলমান। রবিবার দুপুরে প্রতিপক্ষ আব্দুল আজিজ আদালতের রায় পেয়েছেন দাবি করে লোকবল নিয়ে এসে জায়গাটি দখলে নিতে উৎপলের ফার্মেসিতে হামলা চালান। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—হাতিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত কাউসার আহমেদের ছেলে আব্দুল আজিজ এবং তার দুই ছেলে আহমেদ উল্লাহ মেরাজ ও মোহাম্মদ উল্লাহ দিদার।
এ বিষয় ওছখালি পুরাতন বাজার কমিটির সভাপতি মাস্টার মোঃ ফারুক বলেন, “এই জায়গাটি উৎপল ডাক্তারের পরিবারের শত বছরের ভোগ দখলে রয়েছে। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। যদি আব্দুল আজিজ প্রকৃত মালিক হন, তবে আদালতই তা নির্ধারণ করবে। কিন্তু দিনের বেলায় এভাবে হামলা করা ন্যাক্কারজনক।”
পল্লী চিকিৎসক উৎপল চন্দ্র মজুমদার অভিযোগ করেন, “আমি চিকিৎসার কাজে ভারতে ছিলাম। আজ (রবিবার) সকালে দোকানে বসার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ করে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে, দোকান ভাঙচুর করে এবং মহিলা বাহিনী নিয়ে আমার নিজের বসতঘরও দখল করার চেষ্টা করে। আমি হিন্দু বলে কি বিচার পাব না?”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কবির হোসেন বলেন, জায়গা-সংক্রান্ত বিষয়ের জেরে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কোন সমস্যা হবার আগে আমি নিজে ফোর্স নিয়ে সেখানে যাই। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে ।